
জ্বালানি তেলের সংকট ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার খবরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন তেল পাম্পে ভিড় বেড়েছে। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি নেওয়ারও সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার নতুনহাট এলাকার মেসার্স নয়ন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করছিল। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার প্রমাণ পান। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জমসেদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে ভেড়ামারা পৌরসভার একটি স্বনামধন্য তেল পাম্প মেসার্স এম এ খালেক ফিলিং স্টেশনেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী তাওসিফ জানান, তিনি ৪৫০ টাকার জ্বালানি নিলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা রাখে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তিনি বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেন। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষ এ সময় তাদের ভুল স্বীকার করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ সময় দফাদার ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মতিয়ার ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সাহার ফিলিং স্টেশন, মিজান ফিলিং স্টেশন এবং এম এ খালেক ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্প পরিদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ছোট ছোট যেসব দোকানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়, সেগুলোতেও নজরদারি চালানো হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, “নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সঠিক তথ্য ও প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।