
কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া স্টোর পাম্পে পেট্রোল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অল্প পরিমাণ তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে অপেক্ষা করছেন।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল নেওয়ার জন্য পাম্পের সামনে কয়েকশ মোটরসাইকেলের লাইন। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকের মুখে বিরক্তি ও ক্ষোভের ছাপ।
ভুক্তভোগী এক বাইক চালক জানান, “একটু তেলের জন্য এতক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ভাবিনি। কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, তবুও উপায় নেই।”
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি বাইককে নির্দিষ্ট পরিমাণ, যেমন ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটে কুষ্টিয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ কার্যক্রমে ব্যবহৃত ডিপ টিউবওয়েল ও শ্যালো মেশিন চালাতে না পারায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
ভেড়ামারায় খালেক ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই ডিজেল নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ক্ষেমিড়দিয়াড় এলাকার সোবহান আলী নামের এক কৃষক বলেন, “দুই বিঘা জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে। সময়মতো পানি না দিলে জমি শুকিয়ে যায়। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে সেচ দিতে পারছি না। সকাল থেকে বসে থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র তিন লিটার ডিজেল পেয়েছি।”
জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। এতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আবার বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিরপুর উপজেলার আমলা এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
আবুরি মাগুরা এলাকার কৃষক করিম আলী বলেন, “ডিজেল না পেলে জমিতে পানি দেব কীভাবে? ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।”
স্থানীয়দের মতে, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা। তারা জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করে কৃষিকাজ সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

