
দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সাড়া প্রদান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে কুষ্টিয়ায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কুষ্টিয়া ইউনিট।
প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট (আরসিআরসি) আন্দোলনের মৌলিক বিষয়, মানবিক মূল্যবোধ, দুর্যোগকালীন করণীয়, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে সাড়া দেওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনা, আঘাত, রক্তপাত, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা আকস্মিক অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়েও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক ও রেড ক্রিসেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নাদিরা খানম, সেলিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম, সাইদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কুষ্টিয়া ইউনিটের প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ও মানবিক সাড়া প্রদান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তিন্নি আক্তার, বিভাগীয় উপপ্রধান সুরাইয়াজ্জামান নানজিবা এবং যুব সদস্য সোমা খাতুন।
কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনা বেগম বলেন, “দুর্যোগ কিংবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান একটি জীবন রক্ষা করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় মানবিক ও জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।”
সিনিয়র শিক্ষক ও রেড ক্রিসেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নাদিরা খানম বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের মূল লক্ষ্য মানবতার সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কুষ্টিয়া ইউনিটের প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ও মানবিক সাড়া প্রদান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তিন্নি আক্তার বলেন, “স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নিয়মিতভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি সাড়া প্রদানের প্রশিক্ষণ চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা নিজেরা যেমন নিরাপদ থাকতে পারবে, তেমনি পরিবার, সহপাঠী ও আশপাশের মানুষের বিপদের সময়ও কার্যকর সহায়তা করতে পারবে।”
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা সনদপত্র পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। তারা জানায়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছে।