
কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার মো. মহাসিন আলীর ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন।
গত বুধবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে তার রুমমেটরা দ্রুত তাকে জাগিয়ে তোলে এবং বিষয়টি হল সুপারকে অবহিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।
জানা গেছে, শিক্ষার্থী জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা (শ্বাসকষ্টজনিত) সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতেন। পারিবারিকভাবেও এ রোগের ইতিহাস রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল। তিনি বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক কিন্তু স্বাভাবিক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে অযথা অপপ্রচার না চালানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
শিক্ষার্থীর বাবা মো. মহাসিন আলী জানান, “গত মঙ্গলবারও ছেলের সাথে আমার কথা হয়েছে, সে ভালোই ছিল। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেত। তার মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং এ ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
প্রতিষ্ঠান সূত্রে আরও জানা যায়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একজন অভিভাবক জানান, “আমার সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং গত চার বছর ধরে এডুকেয়ারের হোস্টেলে রয়েছে। আমরা নিশ্চিন্তে থাকি। আগে অসুস্থ হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে এবং আমরা এসে দেখেছি। আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকি, কিন্তু ভালো শিক্ষার জন্যই এখানে রেখেছি। এখানকার পড়াশোনার মান ভালো এবং আবাসিকে যথাযথ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মের মধ্যে রাখা হয়, যা তাদের পড়াশোনার জন্য সহায়ক। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা সকলকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য আহ্বান।