
কুষ্টিয়ায় ‘সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের খেয়া রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক হোসেন।
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপনা করেন জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট এক্সপার্ট।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুগান্তর প্রতিনিধি এএম জুবায়েদ রিপন, দ্য ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আনিস মন্ডল, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি হাসান আলী, প্রথম আলোর তৌহিদী হাসান, এখন টিভি প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন পলাশ, ভোরের কাগজের নুর আলম দুলাল, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি তুহিন আহমেদ, বার্তা২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এসএম জামাল এবং দৈনিক বাংলার নাব্বির আল নাফিজ।
এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার সায়েদুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা সুজন কুষ্টিয়ার সভাপতি ও পিএফজি সদস্য অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হেনা মোহাম্মদ গোলাম রসুল বাবলু এবং মিজানুর রহমান লাকী। উপস্থিত ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের খুলনা ক্লাস্টারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস এম রাজু জবেদ ও ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান।
সভার শুরুতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ পরিচালিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্প সহিংসতা প্রশমনে কী কী কাজ করেছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর সমন্বয়কারী ও সুজন জেলা সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)-এর সমন্বয়কারী সাদিক হাসান রহিদ।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। ব্যক্তিগত সমস্যাকে অসাধু চক্র রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যায় রূপ দিয়ে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে। তবে দেশের মানুষ ধর্মীয় বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকায় এসব ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও এ সচেতনতা বজায় রাখতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি হয়, যা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। ধর্ম আমাদের জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, এটি আবেগ ও বিশ্বাসের বিষয়।
তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগী হলে দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। পাশাপাশি শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় জাতীয় গণমাধ্যমের কুষ্টিয়া জেলার ২১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।