
ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে কুষ্টিয়ায় স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বগুড়ার টিএমএসএস ক্যানসার সেন্টারের কনসালট্যান্ট এবং টিউমার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তৌহিফুর রহমান।
সেমিনারে স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে ক্যানসার সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় স্তন ক্যানসারের বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৩ লাখ নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার ফলাফল ভালো হয়।
ডা. মো. তৌহিফুর রহমান বলেন, স্তনে নতুন কোনো চাকা বা পিণ্ড, স্তনের আকার কিংবা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিংবা প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
সেমিনারে ক্যানসার নিয়ে সামাজিক সংকোচ, ভয় ও অসচেতনতার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রবণতা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে ক্যানসার মোকাবিলায় সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুল ইসলাম।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ক্যানসার ভয় আর নয়, বিজয়ীর বেশে লড়লেই হবে ক্যানসারের পরাজয়।’
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ক্যানসার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহ বাড়বে।