
অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর জমি ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজে মোড়া পেঁয়াজের ক্ষেত এখন সম্ভাবনার নতুন বার্তা দিচ্ছে। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা, বাগুলাট, পান্টি, চাপড়া, নন্দলালপুর ও শিলাইদহসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষেতজুড়ে পেঁয়াজের বৃদ্ধি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত কৃষকরা মাঠে অবস্থান করে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ রোগবালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়েছে, যা তাদের লাভের আশা বাড়িয়েছে।
উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় তারা আশাবাদী—বাজারে দাম অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগবালাই দমন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কুমারখালীর এ উৎপাদন জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে কুমারখালীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাওয়া সবুজ পেঁয়াজক্ষেত যেন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষকদের পরিশ্রম আর স্বপ্নের ফসল ঘিরে তৈরি হয়েছে আশার আলো—যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে শুভ সংকেত বয়ে আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

