
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শেহালা গ্রামে জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা জারির পরও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দখলচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাগানের ফল সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মৃত ইয়াসিন আলী শেখের ছেলে হাসানুজ্জামান বাবু।
হাসানুজ্জামান বাবু বলেন, স্বর্গীয় অশ্বিনী কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে বিনিময় সূত্রে তাঁর বাবা ৪.৩৩ একর সম্পত্তির মালিক হন। সম্পত্তিটি আরএস ও খারিজি খতিয়ান নং-৫৩৬ এর আওতাভুক্ত এবং মোট ১৪টি দাগে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে তারা জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তবে আরএস রেকর্ডের সময় ভুলক্রমে তাঁর বাবার নামের সঙ্গে চাচাতো ভাইবোনদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। এ কারণে তাঁর বাবা তৎকালীন দৌলতপুর সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০৯/৯৩, তারিখ ১৪ এপ্রিল ১৯৯৩। আদালত ৬ নভেম্বর ১৯৯৪ তারিখে দুই পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর বাবার অনুকূলে স্বত্ব রয়েছে মর্মে ডিক্রি জারি করেন।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট জমির সরকারি খাজনা ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের ১ মার্চ তাঁর বাবার চাচাতো ভাইদের সন্তানরা শরিফুলের নেতৃত্বে রেকর্ডের দোহাই দিয়ে জমির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে ৫ মার্চ স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রতিপক্ষ ভুল স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করে পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় গত চলতি বছরের ১৫ মার্চ কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি ও তাঁর ভাইবোনেরা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর দৌলতপুর মিস-১৫৪/২৬। মামলায় শরিফুলসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়।চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি ০৫/০৩/২০২৬ইং তারিখে স্থানীয়ভাবে শালিশ মিমাংশার ব্যবস্থা করেন। শালিশ মিমাংশায় শরিফুল গং ভুল স্বীকার করে কিন্তু পরদিন থেকেই তা অস্বকীর করে দখল রাখতে চেষ্টা অব্যহত রাখেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শরিফুল গং দের বোঝানোর একাধিক বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমাকে আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৫/০৩/২০২৬ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কুষ্টিয়াতে আমি আমার ভাইবোনদের পক্ষে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি যার নং-দৌলতপুর মিস: ১৫৪/২৬ এবং বিবাদীগণ। বিবাদীরা হলেন -শরিফুল, আশরাফুল, সাজ্জাদ, সিরাজুল, জামু, লিয়াকত, পিতা-জালী শেখ, মনিরুল ,আসাদুল, রাজ্জাক, খাইরুল, রিপন।
মামলার পর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেন এবং ২০ মে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
পরে বিবাদীরা আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিলের জন্য দুই মাস সময় প্রার্থনা করলে আদালত আগামী ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ ধার্য করেন।
তার অভিযোগ, আদালতের ১৪৪ ধারা জারির পরও বিবাদীরা সংঘবদ্ধভাবে তা অমান্য করে জমিতে প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাগানের আম-কাঁঠাল পেড়ে নেওয়া এবং অন্যান্য ফসল সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমিতে কাজ করতে দেখেছেন বাদীপক্ষকে। তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে থেকে জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তারা জমিটি হাসানুজ্জামান বাবুদের পরিবারের দখলে দেখে আসছেন।
জমির লিজগ্রহীতা আক্তার বলেন, “দুই বছর ধরে লিজ নিয়ে জমিতে ঘাষের আবাদ করছি। জমিতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। জমির মূল মালিক বাবু ভাই আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছেন এবং কোনো সংঘাতে জড়াতে নিষেধ করেছেন।”
অভিযুক্ত পক্ষের শরিফুলকে জমির খাজনার কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
এসময় বলেন, “কাগজপত্রে যদি জমি আমাদের হয়, তাহলে আমরা তা নেব। অন্যথায় নেব না। আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেটাই মেনে নেব।”
বেড়া দিয়ে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে আমাদের দেওয়া বেড়া ছিল। তারা ১৪৪ ধারা জারির পরও সেই বেড়া সরিয়ে ফেলেছে। তাই আমরা পুনরায় বেড়া দিয়েছি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার এএসআই বিপ্লব হোসেন জানান, ঘটনার তদন্ত করে গত ৮ জুন দণ্ডবিধির ১০৭/১৭৭ (সি) অনুয়ায়ী প্রতিবেদন দাখিল করেছি। বিবাদীপক্ষরা আইন অমান্য করে আদালতে বিচারাধীন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাদি পক্ষের জমি দখল করার পাঁয়তারা করছে বলে প্রতিয়মান হওয়ায় প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিবাদীদের গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করবেন বলে আশা করি।