
কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের মাহাতাব উদ্দিন সড়কের ‘রাজুর কবর’ এলাকার দীর্ঘদিনের বেহাল সড়ক সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।
পরিদর্শনকালে কুষ্টিয়া পৌর প্রশাসক মো. জাকির হোসেনকে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ফুয়াদ রেজা ফাহিম, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাহাতাব উদ্দিন সড়কের ‘রাজুর কবর’ এলাকার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে আছে।
প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক মানুষ, রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সড়কের খানাখন্দের কারণে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু মাহাতাব উদ্দিন সড়ক নয়, শহরের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন পৌরবাসী। তাঁদের দাবি, বড়বাজার থেকে লাহিনী সড়কের বিভিন্ন অংশ, পিটিআই সড়ক, অর্জুনদাস আগরওয়ালা সড়ক, হাউজিং কদমতলা, নিশান মোড়, কলেজ মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৩৬ দশমিক ৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা সড়ক ২৫৯ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার, সেমি-পাকা ৩৭ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার এবং কাঁচা সড়ক ১৩৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার। একই সঙ্গে পৌর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণির ড্রেন রয়েছে মোট প্রায় ৩৯৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার।
সড়কের সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বয় না থাকলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগ বাড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত আরও নষ্ট হচ্ছে।
তবে পৌরবাসীর বক্তব্য, বড় প্রকল্পের পাশাপাশি শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত সংস্কারও জরুরি। কারণ এসব সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হয়।
শহরের বিভিন্ন সড়কের এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাট নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, টেকসই নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পৌরবাসীর অভিযোগের পর জেলা পরিষদের প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শন এবং পৌর প্রশাসককে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এখন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্ভোগের অবসান হবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।