
মেহেরপুরে রজব টিউটোরিয়াল নামের একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের স্বত্তাধিকারী আর এইচ রজবের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ, অপ্রীতিকর স্পর্শ, চাকরির প্রলোভন দিয়ে অশোভন আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন বার্তা আদান-প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের কোচিং সেন্টারের প্রাক্তন একাধিক শিক্ষার্থী এ অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আর এইচ রজব, মেহেরপুর সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। তবে তাঁকে নিয়ে এ ধরণের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে সুচতুর রজব সদর থানায় একটি জিডি করে রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষকের কাছে পড়ার সময় তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শের চেষ্টা করেছেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “চার থেকে পাঁচ মাস আগে আমি রজব স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম। পড়ানোর সময় রজব স্যার খুব সূক্ষ্মভাবে গায়ে হাত দিতেন। প্রথম প্রথম আমি মনে করতাম, এটা স্বাভাবিক; হয়তো ভুলবশত হাত লাগছে। কিন্তু পরে একদিন পড়া শেষ করে চলে যাওয়ার সময় স্যার আমাকে বলেন, ‘একটু দাঁড়াও, কথা আছে।’ পরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমার বুকে হাত দেন। তখন মানসম্মানের ভয়ে এবং স্যার নিজেও ভয়-ভীতি দেখাতেন বলে আমি কাউকে বিষয়টি বলতে পারিনি।”
এক প্রাক্তন ছাত্রের বড় বোন অভিযোগ করে বলেন, “একজন ছাত্রীকে একা পেয়ে তিনি রুম লক করে দেন। পরে রজব স্যার আমার বোনের সঙ্গে অপ্রীতিকর স্পর্শ করেন। সুযোগ পেয়ে আমার ছোট বোন আমাকে ফোন দেয়। আমি আশপাশেই ছিলাম, তাই গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তখন মানসম্মানের ভয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, কোচিং সেন্টারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষক তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি তাকে ব্লক করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা ভয়ে বা সংকোচে বিষয়টি কাউকে বলতে পারে না। এছাড়া, তিনি কিশোরী (টিনএজ) শিক্ষার্থীদেরও প্রেমের প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্ক্রিনশটগুলোতে স্যারের আইডি থেকে করা অসামাজিক মন্তব্য এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানের দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশটে ওই শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অশালীন কথোপকথনের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব স্ক্রিনশটের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তার কোচিংয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “স্যারকে দেখে কখনোই সুবিধার মনে হতো না। এছাড়াও অনেক মেয়ে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে।”
মেহেরপুর প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আর এইচ রজব ২০২২ সালে গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে একই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দেয়।
তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক সম্মানের কারণে তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তাদের প্রত্যেকের অডিও ক্লিপ মেহেরপুর প্রতিদিনে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আর এইচ রজব প্রথমে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও পরে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি চুপ করে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফেসবুকে যা ছড়িয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগ তো অনেকেই করতে পারে, কিন্তু যারা আমার কাছে পড়েছে, তারা আমার সম্পর্কে জানে। আমার কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের অভিযোগ করছে এটি আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”