
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও তেলের লরি গতিরোধ করে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ৫/৬ জনের মুখোশধারী একটি ডাকাত দল পথচারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের কোপে জহিরুল ইসলাম (৪৬) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর থানাধীন লক্ষ্মীকুন্ডু গ্রামের কুশোগুড়ি মাঠের ফাঁকা জায়গায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর থানা এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে কোটচাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানাধীন সলেমানপুর বাজারপাড়ার আবুল কাশেম মন্ডলের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৪৬) এবং মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত দাউদ হোসেন মালিথার ছেলে মো: মমিনুর রহমান (৪২)।
মোটরসাইকেলটি কোটচাঁদপুর টু সাবদারপুরগামী পাকা রাস্তার লক্ষ্মীকুন্ডু কুশোগুড়ি মাঠের ফাঁকা জায়গায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫/৬ জনের একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী রাস্তার ওপর খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাদের গতিরোধ করে। সবার মুখমন্ডল কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা জহিরুল ইসলাম গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগোতেই ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন ডাকাত ধারালো দা দিয়ে জহিরুলের পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে এবং অন্য একজন করাত দিয়ে পোচ দিয়ে নৃশংসভাবে কাটা জখম করে। জহিরুল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ডাকাতরা তার কাছ থেকে নগদ ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা এবং ০১৭২৩৪২২৩৯৬ নম্বরের একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
একই সময় মোটরসাইকেল চালক মমিনুল ইসলামকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ ৮,০০০ (আট হাজার) টাকা এবং ০১৭১৩৯৬৭৯৬৭ সিম সংবলিত একটি নোকিয়া বাটন ফোন লুটে নেয় ডাকাত দল।
ট্রাক ও তেলের লরিতেও হানা
মোটরসাইকেল আরোহীদের ওপর তাণ্ডব চালানোর পরপরই কোটচাঁদপুরের দিক থেকে আসা দুটি ট্রাক ও একটি তেলের লরির গতি রোধ করে ডাকাত দল। সাবদারপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ট্রাক ড্রাইভার মো: রিয়াদকে মুখে আঘাত করে গুরুতর জখম করে তারা। তবে তার কাছ থেকে কোনো কিছু নিতে পারেনি। এরপর ডাকাত দল তেলের লরির ড্রাইভারকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ আরও ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতি করার সময় দুষ্কৃতকারীরা নিজেদের মধ্যে একজনকে 'মাস্টার' বলে সম্বোধন করে ডাকছিল। ধারণা করা হচ্ছে, 'মাস্টার' নামক ওই ব্যক্তিই এই ডাকাত দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
লুটপাট ও হামলার ঠিক পরপরই ঘটনাচক্রে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের গাড়ির আলো ও উপস্থিতি টের পেয়েই সশস্ত্র ডাকাত দলটি মালামাল নিয়ে দ্রুত অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মুখোশধারী ও 'মাস্টার' চক্রের এই ডাকাত দলকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ইতিমধ্যেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।