
বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ব্রোকলির চাষ হয়েছে কোটচাঁদপুরে। ব্রোকলি উচ্চ মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী একটি সবজি।
এছাড়া স্বল্প ব্যয়ে, কম সময়ে ভালো ফলন হয় সবজিটিতে। এ কারণে এই সবজি চাষ করে আগামীতে চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাশের গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষক কলিম উদ্দিন বলেন, আমার ৭০ বছর জীবনে এমন কপির চাষ কোনো দিন দেখি নাই। এ কারণে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। জানতে পারলাম এ কপি অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন।
ওই গ্রামের আয়না খাতুন বলেন, এমন কপির চাষ আগে কোনোদিন দেখিনি এ গ্রামে। তবে এ কপি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। আর অধিক পুষ্টি আছে বলে জানতে পেরেছি।
এর আগে এমন চাষ দেখেনি তহুরা খাতুনও। তিনি বলেন, কপির মতো দেখতে। তবে কপির তুলনায় খেতে বেশ স্বাধের এ সবজিটি।
চাষি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, নতুন ফসলের চাষ করা আমার একটা শখ। আর এসব নতুন ফসলের ধারনা নিয়ে থাকি আমি ইউটিউব দেখে। এরপর চাষ করি। গেল বছর আমার নতুন চাষ ছিল রঙ্গিন ফুলকপি। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর আমি চাষ করেছি ব্রোকলির। এছাড়া এর পাশাপাশি আমার চাষ রয়েছে মালটা, আম, পেয়ারা ও কলার ।
তিনি বলেন, ব্রোকলি অন্যান্য চাষের তুলনায় একটু ভিন্ন ধর্মী ফসল। এটা অল্প সময়ে, কম টাকা ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করা যায়। লাভের পরিমাণ বেশি। তিনি ভুট্রার চাষের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমরা অনেকে ভূট্রার চাষ করে থাকি। যা এক বিঘা চাষ করতে ব্যয় হয় ২০/২২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে লাভ হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। সেখানে এক বিঘা ব্রোকলি সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদে লাভ হয় ৫০/৬০ হাজার টাকা। এছাড়া এ চাষ করতে লাগে না তেমন কোনো কীটনাশকের ব্যবহার।
মোস্তাক বলেন, ব্রোকলি একটি অতি পুষ্টি সম্বলিত সবজি। রয়েছে বাজারে বেশ চাহিদা। বিক্রি করতে পড়তে হয় না কোনো সমস্যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রোকলি কপি জাতীয় সবজি। এটা যেমন কপির মতো তরকারি রান্না খাওয়া যায়। তেমনি খাওয়া যায় লুডুস ও সালাত হিসেবেও। এটা একটা উচ্চমূল্যের সবজি। ব্রোকলি ক্যান্সার প্রতিরোধী সবজি।
তিনি বলেন, এ সবজিটি মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। আর কম সময়ে চাষিরা ৮০/৯০ হাজার টাকা লাভবান হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, কোটচাঁদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলির চাষ মোস্তাক হোসেন নামের এক চাষি শিবনগর মাঠে। তুলনামূলক ভাবে ফুল কপি, বাধা কপির তুলনায় বেশ লাভ জনক চাষ। এ বছর কোটচাঁদপুরে ৯৯ হেক্টর জমিতে কপির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধা কপি ৪৮ হেক্টর ও ৫১ হেক্টর জমিতে ফুল কপি রয়েছে।