
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী নজির উদ্দিন। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তার সংসার। প্রতিবন্ধী হয়েও ভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। ঈদের আগেই প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পাবেন এই আশায় ছিলেন নজির উদ্দিন। সেই টাকা পেলে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করবেন বলেও ভেবেছিলেন।
কিন্তু ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও এখনও ভাতার টাকা পাননি তিনি। এরই মধ্যে ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভাতা পাওয়ার আশা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুধু নজির উদ্দিন নন, কোটচাঁদপুর উপজেলার এমন ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই এই ভাতার টাকার ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো টাকা না পাওয়ায় তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ জানান, উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ২০৬ জন বয়স্ক, ২ হাজার ৯৭০ জন বিধবা এবং ৪ হাজার ৩৭৯ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকের ঈদের আগে তিন মাসের ভাতার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ৩ মার্চ ভাতার টাকা সাবমিট করা হয়। কিন্তু এখনো কেন ভাতাভোগীরা টাকা পাননি, তা বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও জানান, পাশের কালীগঞ্জ উপজেলায় শুধু বয়স্ক ভাতার টাকা প্রদান করা হয়েছে, অন্য ভাতাগুলো এখনও দেওয়া হয়নি।
এদিকে ভাতাভোগীদের অনেকে সমাজসেবা অফিসে এসে খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের ঈদের আগেই টাকা পৌঁছাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে দায়ী কে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর দায়ী হতে পারে, কারণ আমরা নির্ধারিত সময়েই ভাতার টাকা সাবমিট করেছি।” ভাতাভোগীরা টাকা না পাওয়ায় তিনিও দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, “এ বিষয়টি সমাজসেবা অফিস দেখভাল করে। যদি ভাতার টাকা পাওয়ার কথা থাকে, তাহলে আজ বা কাল না পেলেও ঈদের পর পাওয়া যাবে না পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ তারিখের মধ্যে ভাতার তথ্য সাবমিট করা হয়েছে। তবে ঈদের আগে টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। আমাদের পক্ষ থেকে সময়মতো সব করা হয়েছে, কিন্তু অধিদপ্তর থেকে টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
ভাতাভোগীরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে একমত। ঈদের আগে টাকা পেলে তারা খুশি হতেন। এখন যদি না পান, তার সঠিক ব্যাখ্যা অধিদপ্তরই দিতে পারবে।”

