
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত পাশাপাশি দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটিতে চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান এবং অপরটিতে ফুসকা-চটপটির দোকান ছিল। রাতে দোকান দুটি বন্ধ থাকার সময় স্থানীয়রা চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পুরো শহর বিদ্যুৎশূন্য হয়ে পড়ে। পরে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হাসেম জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজে সহায়তা করেন।
চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকানের মালিক তৌহিদ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগেও একইভাবে রাতে তার দোকানে আগুন লাগানো হলে পাশের চারটি দোকান ভস্মীভূত হয়। সে সময় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এবারও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে আরেক চটের বস্তা ব্যবসায়ীকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি।
অন্যদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসকা-চটপটির দোকানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত দুই বছরে এখানে দুইবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে আগুন লাগে তা তিনি জানেন না। এবার আগুনে সবকিছু পুড়ে গিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানান।