
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠন করতে হলে একটি সুস্থ মনের দরকার, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ দরকার এবং সেটা জন্য একটি সুস্থ দেহ দরকার। সুস্থ দেহের মধ্যেই সুস্থ মন বাস করে। বাংলাদেশে অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা রয়েছে এর মধ্যে কাবাডি একটি উল্লেখযোগ্য খেলা।
এছাড়াও রয়েছে হাডুডু, গোল্লাছুট আমাদের এই গ্রামীণ খেলাগুলো ঠিকমতো আর প্র্যাকটিস হচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে আমাদের
ছেলেমেয়েরা, শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ বিমুখ হয়ে গেছে। তারা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আমি এটাকে বলছি ডিজিটাল ডিভাইস দূষণ। এর কারণে আজকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার দিকে মনোযোগ নেই। এই মনোযোগ আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলার বিকল্প কখনোই ডিজিটাল ডিভাইস হতে পারে না। ভার্চুয়াল জগত কখনোই বাস্তব জগতের বিকল্প হতে পারে না। তাদের সকলকে অ্যাকচুয়াল জগতে ফিরে আনতে হবে।
শনিবার সকাল ১০টায় মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়ামে সদর উপজেলা গোল্ডকাপ ভলিবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস পলিউশনের জন্য আমাদের ইয়াং জেনারেশন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ওখান থেকে ফিরে আনার আমাদের যে বড় প্রচেষ্টা, তারই অংশ আজকের এই আয়োজন। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে উন্নত জাতি প্রয়োজন, তা গড়ার একটি পদক্ষেপ।
মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ে তিনি বলেন, মেহেরপুরে মাদক রোধে যা যা করণীয়, তা জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনসহ আমাদের অন্যান্য দপ্তরগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করব এবং ইতিমধ্যেই কিছু কাজ শুরু করেছি। অনলাইন জুয়ার মতো এত বড় একটি ছোবলে অনেকেই বিপদগ্রস্ত হয়ে গেছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে ফেলেছে। যারা এর পেছনে আছে, তাদের আমরা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
প্রতিযোগিতার সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদকের অন্ধকার গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো খেলাধুলা। আজকের যুবক যদি স্মার্টফোনের গেমে ডুবে থাকে, তাহলে তার শরীর-মন দুটোই নষ্ট হবে। আমি চাই, মোবাইলের স্ক্রিন নয় খেলার মাঠই হোক তোমাদের আড্ডাখানা। মাদক নয়, ঘাম ঝরানোই হোক তোমাদের নেশা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকাসক্ত হতে না দিতে আজকের যুবকদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।
কুচকাওয়াজ, জাতীয় সংগীত, রঙিন বেলুন ও ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
এসময় জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও মেহেরপুর পৌরসভার ১টি মোট ৮টি দল ভলিবল ও কাবাডি দুটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে।