
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় যুবদলের একটি দল। এ সময় তারা আলম হুসাইনকে মিটিং থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায়।
এর আগে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রবেশ করে তারা। সে সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির ডাক্তার রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।
খবর পেয়ে গাংনীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ফোরামের সভায় মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করায় পুলিশসহ উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি ও ছাত্রদল নেতা ইমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সভাকক্ষে প্রবেশ করে কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আলম হুসাইনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
একটি সূত্র জানায়, ভিজিএফের চালের মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন। এ বিষয়টি নিয়ে যুবদলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।
গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, “উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সভাকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক, অপরাধ করেছে। আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। উপস্থিত সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করছি।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতেই যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। এদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে ধিকৃত হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে গাংনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হতবাক।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি না। আজকের সভায় যা ঘটেছে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতে হবে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রশাসন প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নেবে।”
সভার প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “এটি শুধু আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা নয়, আমাদের সবার ওপর হামলা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাংনী উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।