
মেহেরপুরের গাংনীতে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সৃষ্ট সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আজ সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে সাহারবাটি গ্রামের কড়ইতলা পাড়া এলাকার ইমন আলীর স্ত্রী রিয়া খাতুন (৪০), তরিকুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৩), চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৬০), মুন্তাজ আলী (৫০), নেঙ্গার আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম (৫০), মাঠপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মিথুন হোসেন (৩০), সামসদ্দীনের ছেলে আইনাল হক (৫০), আনসারুল ইসলাম (৬৫) ও তার স্ত্রী শাহানারা বেগম (৬০) রয়েছেন। অপরদিকে হামলাকারী বিএনপি নেতা দবির হোসেনের ভাই আব্দুল খালেক ও আব্দুল মালেক আহত হয়েছেন।
বিএনপি নেতা দবির হোসেন জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন-জুলুম চালিয়ে আসছিলেন। তারা তাদের গোয়ালের গরু পর্যন্ত নিয়ে গেছে এবং মাঠের ফসল তুলতে দেয়নি। তাই ‘মারের বদলে মার’ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী জানান, ৫ তারিখের পর থেকেই দবির উদ্দীন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তারা বেশ কয়েকবার চাঁদা দিয়েছেন। আজ আবারও চাঁদা চেয়ে না পেয়ে তার বাবা-মায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তার বাবা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, সকালের মারামারির পর সেখানে পুলিশ গিয়েছিল। আবারও সন্ধ্যায় মারামারি হয়েছে এমন খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

