
মেহেরপুরের গাংনীতে আবারও গমের খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন লেগে ১৫ বিঘা জমির গম, ভুট্টা, তামাক, সেচের মেশিন ও আমবাগান পুড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার চোখতোলা মাঠে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের গম কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে এখনও কিছু কৃষকের গম রয়েছে। এছাড়াও তামাক, ভুট্টা, আমবাগান ও সেচের মেশিন রয়েছে বিভিন্ন জমিতে। তবে মাঠজুড়ে গমের খড় পোড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন অনেক চাষি। দুপুরে এক চাষি তার জমির খড় পোড়াতে গেলে অসাবধানতাবশত আগুন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জমিতে।
চোখতোলা মাঠের চাষি মজনুল হক বলেন, “আমার গম, ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও তামাক পুড়ে গেছে। প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছিলাম, সব পুড়ে গেল। একজন চাষির অসাবধানতায় ১০-১৫ জন চাষির ফসল নষ্ট হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ময়েশপুর গ্রামের চাষি আজিজুল হক তার ১০ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
আরেক চাষি আব্দুল হালিম বলেন, “দুপুরে প্রচণ্ড রোদ ও বাতাসের মধ্যে খড় পোড়ানোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমার একটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন, তামাক ও আমবাগান পুড়ে গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, “চোখতোলা মাঠে গম, তামাক, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে গেছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনাটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা হবে।”
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “আজিজুল হক নামে এক চাষি খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন কৃষকের গম, তামাকসহ ফসল পুড়ে যায়। পাশাপাশি তিনটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিনও পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে খড় না পোড়ানোর জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে মসজিদে মসজিদে প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও অনেকেই খড় পোড়াচ্ছেন, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে ৫ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে যায়। এতে কৃষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।