
মেহেরপুরের গাংনীর সাহারবাটীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউপি সদস্যের পিতা আনসারুল ইসলাম (৬৫) ও তার স্ত্রী শাহানারা বেগমকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ দবীর হোসেন ও তার লোকজন। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত আনসারুল ইসলামকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তবে আনসারুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত শাহানারা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে হামলাকারী দবীর হোসেন ও তার দুই ভাই খালেক ও আব্দুল মালেক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তারাও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত আনসারুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্বাস আলী জানান, ৫ আগস্টের পর মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে বিএনপির স্থানীয় কর্মী দবীর ও তার লোকজন। এর আগেও তিনি গোপনে কিছু টাকা দিয়েছেন।
পরে আবারও টাকা চাইলে তিনি দিতে রাজি না হওয়ায় সকালে দবীর ও তার দুই ভাই তার বাবা ও মাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে।
তার বৃদ্ধ বাবা ও মাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
এ বিষয়ে দবীর উদ্দীন জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার ওপর চরম অত্যাচার করে আব্বাস মেম্বার ও তার বাবা। জোর করে তার গোয়াল থেকে গরু-ছাগল নিয়ে যায় তারা। মাঠের আবাদ ঘরে তুলতে দেয়নি আব্বাস মেম্বার ও তার লোকজন। তাই ‘মাইরের বদলে মার’ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় তার দুই ভাই আব্দুল খালেক ও মালেক আহত হয়েছে বলেও জানান।
সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, এ হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। একজন বৃদ্ধ মানুষের ওপর হামলা করা উচিত হয়নি। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তাকে হামলা করা হয়নি, এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব। দবীর বিভিন্ন মানুষের ওপর একের পর এক হামলা ও জোরজুলুম চালিয়ে আসছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ইউপি সদস্য আব্বাস আলী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

