
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের হিসাবরক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিল ছাড়ের নামে কমিশন নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উন্নয়ন কাজের বিল দ্রুত প্রস্তুত ও ছাড় করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করেন বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা দাবি করেছেন। এতে অনেক ঠিকাদার একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিল জমা দিলেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কমিশন দিলে দ্রুত বিল তৈরি হয়ে যায়। সরকারি নিয়ম মেনে কাজ শেষ করার পরও বিলের জন্য অফিসে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হতে হয়। টাকা দিলে কাজের গতি বাড়ে, না দিলে তৈরি করা হয় নানা জটিলতা।
এছাড়া ওই হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। ঠিকাদারদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শতভাগ ঠিক থাকার পরও বিল নিষ্পত্তিতে তাঁদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, আসাদুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন। এমনকি তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনাকেও তোয়াক্কা করেন না। তাঁদের ভাষায়, অফিসে যেন এক ধরনের রামরাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না, কারণ প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে আরও বড় হয়রানির শিকার হতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হিসাবরক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারলে আমাকে বদলি করে দেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, আসাদুজ্জামানকে নিয়ে আমিও বড় বিপদে আছি। সব কথা ইচ্ছে থাকলেও বলতে পারি না।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গাংনী এলজিইডি অফিসের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।