
পিইডিপি-৪ এর আওতায় মেহেরপুরের গাংনীর পাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লকের নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহারের ফলে ইতোমধ্যে ওয়াস ব্লকের ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৪ টাকা ব্যয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লকের নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বালু, সিমেন্ট ও ইট ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সে সময় সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেননি। ফলে ঢালাই দেওয়া ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
পাকুড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান টিটু আহমেদ ও জিয়াউর রহমান জানান, কাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ও স্থানীয় বালু ব্যবহার শুরু করে। সে সময় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। এমনকি ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কাজ করেছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। এখনই ছাদ ভেঙে পড়ছে। কিছুদিন পর পুরো ওয়াস ব্লক ধসে পড়লে অনেক নিরীহ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এমন নিম্নমানের কাজ চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুপালী খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, নিম্নমানের কাজের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন।
তবে তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। ছাদের ঢালাইয়ের পর সেন্টারিং খোলার সময় ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। বর্তমানে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ জানান, ছাদ ঢালাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট অফিসকে জানাতে হয়। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের অবহিতকরণ ছাড়াই কাজ করেছে। ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।