
মেহেরপুরের গাংনীতে অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সরকারি দর্জি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চরম অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের বিরুদ্ধে ৩০ জন দুস্থ প্রশিক্ষণার্থীর মাসিক ভাতা ও প্রশিক্ষণের মালামাল ক্রয়ের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩১ আগস্ট বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে তিন মাসব্যাপী এই দর্জি প্রশিক্ষণে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন অসচ্ছল নারী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা।
কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এপ্রিল মাসে পূর্ণ ভাতা পেলেও মে মাসে দেওয়া হয় মাত্র ১ হাজার ৭০০ টাকা। পরবর্তীতে জুন মাসের ভাতার টাকা উত্তোলন করা হলেও রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো টাকাই দেওয়া হয়নি।
ভোমরদহ গ্রামের প্রশিক্ষণার্থী ইতি খাতুন জানান, “জুন মাসের ভাতা দেওয়ার কথা বলে আমাদের দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে টাকা উঠিয়েও আমাদের এক টাকাও দেওয়া হয়নি।”
একই অভিযোগ করেছেন শিশিরপাড়া গ্রামের চামেলী ও জেসমিন খাতুন এবং গাড়াডোব গ্রামের ছকিনা ও জেসমিন খাতুন।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, ভাতার টাকা কম দেওয়ার পাশাপাশি জাল স্বাক্ষর তৈরি করে অতিরিক্ত টাকাও আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে।
শুধু ভাতা আত্মসাতের অভিযোগই নয়, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি মালামাল নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রশিক্ষণার্থীদের সিট কাপড়, কাঁচি, সুতা, মেজারমেন্ট টেপ ও স্কেলসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজ খরচে বাড়ি থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তা মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সেখানেও একই ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের সন্দেহ।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। জুন মাসের সরকারি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “২ আগস্ট নির্দেশনা এসেছে টাকাগুলো না দেওয়ার জন্য।”
তবে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে এক মাসেরও বেশি সময় নিজের কাছে রাখার কারণ ও বাজেটের বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাবিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সদ্য অবগত হয়েছেন এবং ঘটনাটি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সরকারি প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুস্থ নারীদের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মসাৎকৃত ভাতা অবিলম্বে ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীরা।