
‘জ্বিনের বাদশা’র কথায় বিশ্বাস করে তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জমা দিয়ে পিতলের মূর্তি পেলেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। প্রায় দুই মাস মোবাইলে যোগাযোগের পর এমন প্রতারণার শিকার হন ওই নারী। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আশরাফুলের স্ত্রী লিলুফা খাতুনের সঙ্গে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, দুই মাস আগে গভীর রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল আসে। তিনি কল রিসিভ করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দেন। কল কেটে দিলে পরিবারের বড় ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখিয়ে কল না কাটতে বলেন। তিনি বিভিন্ন দোয়া-দরুদ ও মন্ত্র পড়তে থাকেন এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে নিষেধ করেন।
পরদিন মধ্যরাতে আবার কল দিয়ে তাকে নিজের মেয়ে দাবি করেন এবং ধনসম্পদে ভরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এভাবে প্রায় দুই মাস ধরে তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে থাকেন।
গত শনিবার গভীর রাতে আবারও কল দিয়ে কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’ বলেন, “তুমি আমার মেয়ে। তোমাকে অনেক ধনসম্পদ দিতে চাই। গাংনী বড় মসজিদের পেছনে একটি স্বর্ণের মূর্তি রাখা আছে। সেটি নিয়ে বাড়িতে গোপন জায়গায় রাখবে। বিনিময়ে তোমার বাড়িতে থাকা সব স্বর্ণের গহনা ওই স্থানে রেখে আসবে। পরদিন সকালে গহনাগুলো সেখান থেকে নিয়ে যাবে।”
তার নির্দেশনা অনুযায়ী লিলুফা খাতুন স্বর্ণের চেইন, দুল, চুড়িসহ বিভিন্ন গহনা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে মূর্তিটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন রোববার দুপুরে গহনা নিতে গিয়ে সেখানে কিছুই না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তখনই বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
পরে কথিত ‘স্বর্ণের মূর্তি’টি স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়, সেটি পিতল/কাঁসার তৈরি। প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উৎসুক জনতা মূর্তিটি দেখতে ভিড় করেন।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার বলেন, “এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”