
মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষক ও সেচপাম্প মালিক মো. একতারুল ইসলামের সোলার প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট ভেঙে চুরমার করার পাশাপাশি বাকি প্লেটগুলোর সব তার কেটে দেওয়া হয়েছে।
এতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেচপাম্পের আওতাধীন জমির চাষিরা। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গত সোমবার রাতের কোনো একসময় উপজেলার রামনগর ও বালিয়াঘাট মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখন ধানের ভরা মৌসুম। মাঠজুড়ে ধান রয়েছে, আর এ সময়ে জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া প্রয়োজন।
সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা ধরতে পারে এবং ফলন অনেক কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সোলার প্যানেলের প্লেট ভাঙচুর ও তার কেটে দেওয়ার ঘটনায় সেচপাম্পের মালিকের পাশাপাশি চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সোলার প্যানেলের মালিক ও সেচপাম্পচাষি মো. একতারুল ইসলাম বলেন, গত বছর তিনি সেচপাম্প ও সোলার প্যানেল স্থাপন করেন।
পাম্প স্থাপনে তাঁর খরচ হয়েছে ১১ লাখ টাকা এবং সোলার প্যানেল বসাতে খরচ হয়েছে ছয় লাখ টাকার বেশি। সকালে মাঠে এসে দেখেন, তিনটি প্যানেলের প্লেট ভেঙে চুরমার করা হয়েছে এবং বাকি প্লেটগুলোর সব তার কেটে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এতে আমার কত টাকা খরচ হবে, তা-ও জানি না। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে ওঠা আমার জন্য কঠিন। এখন সোলার প্যানেলগুলো মেরামত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
একতারুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁর সেচপাম্পের আওতায় প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, কলাই, পেঁয়াজ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়েছে। এখন এসব জমিতে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সোলার প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাঁর কাছে প্যানেলগুলো মেরামতের মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
তিনি বলেন, “কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে সোলার প্যানেলগুলো মেরামত করা সম্ভব হবে না। প্রতিটি সোলার প্যানেলের প্লেটের দাম ২০ হাজার টাকা, এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ তো আছেই। অনেক কষ্টে ধারদেনা করে পাম্প ও সোলার প্যানেল বসিয়েছি। যারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ধানচাষি মো. শান্ত ইসলাম বলেন, এখন ধানে সেচ দিতে না পারলে ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চিটা ধরতে পারে। এতে ফলন কমে যাবে। মাঠে অন্যান্য ফসলও রয়েছে, সেচের অভাবে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করলে সেচপাম্পের মালিক কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক চাষি মো. জিনারুল ইসলাম বলেন, সকালে মাঠে এসে তিনি তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। বাকি প্লেটগুলোর তারও কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে সেচ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সোলার প্যানেল মেরামত করা না হলে চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। সেচপাম্প মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত সোলার প্যানেলের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করা যায় কি না, তা-ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চাষিদের পাশে আছি। এ ধরনের ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর রাতে গাংনী উপজেলার ভবানীপুর মাঠ থেকে কৃষক মো. কামাল উদ্দিনের তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট চুরির ঘটনা ঘটে। এর তিন মাস আগেও একই স্থান থেকে তাঁর আরও তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট চুরি হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।