
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সন্ত্রাসী আচরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে গাংনী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ষোলটাকা ইউনিয়নের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুনের স্বামী আবুল হোসেন কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সরকারি কর্মচারী না হয়েও ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিষদে গিয়ে তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দুইজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয় বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এই দাবির প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের ছেলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র আনার নির্দেশ দেন এবং সন্ত্রাসী আচরণ করেন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আলোচনা শেষে তারা আমাদের দুইজন প্রতিনিধির নাম লিখে দিতে বলেন। আমরা সে অনুযায়ী লিখিতভাবে নাম প্রদান করি।
তবে এরপরও তাদের সহযোগী ক্যাডার বাহিনী আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিতভাবে চড়াও হয়ে কয়েকজন কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভিজিএফ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুনের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করা হয়েছে। জামায়াতের দাবি, ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, ষোলটাকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।