
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামে প্রায় ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী থানার মামলা নং-১১, তারিখ ৬ জুলাই ২০২৬, পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার বাদী মুন্দা মাঝের গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নার্গিস বানু (৪৬)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ছেলে মো. শাহীনের নির্মাণাধীন বাড়িতে টাইলসের কাজ চলছিল। বাড়িতে বাইরের শ্রমিক থাকায় নিজের ও দুই মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা, একটি প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ির উঠানে দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন তিনি।
গত ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাইলস মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর মাটি খোঁড়া দেখতে পেয়ে সেখানে রাখা স্বর্ণালংকার আর খুঁজে পাননি। পরে বিষয়টি কুয়েতপ্রবাসী ছেলে শাহীনকে জানালে তিনি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন, টাইলসের কাজ করা দুই মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে নিজেদের মধ্যে কথা বলে সেগুলো নিয়ে বাড়ির পেছনের দিকে চলে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই মিস্ত্রি মোমিন খান (৩৬), কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আলাল (২২), একই এলাকার বাসিন্দাকে শনাক্ত করেন।
পরে গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মো. আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ২টি নেকলেস, ৩ জোড়া কানের দুল, ১টি বেসলেট, ৩টি চেইন, ১টি লকেট, ৭টি বালা ও ১টি বেঙ্গল বালা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।