
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে এডিবি প্রকল্পে মানহীন কাজ করে বরাদ্দ লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ৪০ হাজার টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দীনের বিরুদ্ধে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন রাজস্ব খাতের আনুমানিক ৩ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রশাসক রকিব উদ্দীন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিন স্বীকার করছেন তার কাছ থেকে প্রশাসক ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এডিবি, কাবিখা, টিআরসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে সেখান থেকে লাভের অর্থ ভাগাভাগি করা হয়েছে। তারা এসব প্রকল্পের কাজ, ব্যয় ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগত লাভ নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর আগেও সিলিং ফ্যান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে প্রশাসক মোঃ রফিক উদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা খাতের আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এগুলো খতিয়ে দেখার কারণে বিভিন্ন সময় তিনি অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও সম্মানহানি করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছরের খাজনার প্রায় ৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে, সেখানে মাত্র ১০ হাজার টাকার কিছু বেশি জমা হয়েছে। এছাড়া নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, প্রিন্টিং প্রেস, অনার বোর্ড ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন খাতে কিছু টাকা ব্যয় হয়েছে ।
কর্মকর্তা নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখার কারণেই তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাসকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিক উদ্দীনকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রশাসক মিথ্যা বলছেন। আমি হিসাব দিয়েছি।
এদিকে ট্যাক্সের টাকা লুটপাট, রাস্তায় নিম্নমানের ইট, নিম্নমানের সিলিং ফ্যান সহ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা নয়ছয় করার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।