
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দী বাজারে অকটেন, পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জনবসতি এলাকায় দাহ্য পদার্থের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিও উঠেছে।
জানা গেছে, বামুন্দী বাজারের জনতা ব্যাংকের নিচে অবস্থিত সামিয়া ট্রেডার্স (প্রোপাইটর আব্দুল আল হোসেন ওরফে মিঠু), যিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার এবং বামুন্দী বাজারের মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে জনবসতি এলাকায় খোলা বাজারে একই স্থানে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার সকালে সামিয়া ট্রেডার্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারের জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে বামুন্দী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জনবসতি এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থের দোকান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা এসব দোকান অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জনবসতি এলাকায় অবৈধভাবে এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বামুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে খোলা বাজারে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে, যা জনবসতি এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বামুন্দী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মেহেরুল্লাহ বলেন, আজকের অগ্নিকাণ্ডে আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে জনবসতি এলাকায় এ ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।
জনতা ব্যাংক বামুন্দী শাখার ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নির্ধারিত সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে ব্যবসা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাংকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ স্থানে হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে সামিয়া ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল আল হোসেন (মিঠু) বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়েছেন। তবে তিনি লাইসেন্স দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, কোথায় কীভাবে ব্যবসা করবেন তা তার ব্যক্তিগত বিষয়। অগ্নিকাণ্ডে কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বামুন্দী ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনবসতি এলাকায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।