
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩২শ অতিদরিদ্র মানুষ ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলরাই পরিষদে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে উপজেলার অন্য সব ইউনিয়ন পরিষদ ইতোমধ্যে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু রাইপুর ইউনিয়নে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে থমকে আছে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রম। ঈদ উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া এই চাল পাওয়ার কথা ছিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ২০০ অতিদরিদ্র মানুষের।
গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের জেরে এখনো উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনই করতে পারেনি ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ভয় পাচ্ছেন প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং সচিব পর্যন্ত। ফলে পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে প্রতিপক্ষ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে ইউনিয়ন পরিষদে এসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার ছোট ভাইয়ের দোকান এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতেও গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।
এ পরিস্থিতিতে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।
রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিপক্ষ গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে পরিষদে জোর করে বসানোর অপচেষ্টা করেন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোঁটা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ দখল ও চাল উঠলে তা লুট করার ঘোষণা দেন। এতে রাইপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শত শত সশস্ত্র লোক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এলে এলাকার লোকজন তাদের সেই হামলা প্রতিহত করেন। তারপর থেকে এলাকার সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে বুধবার সারাদিন ১০/১৫টি মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পরিষদের আশপাশে আসে এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, অত্র ইউনিয়নের প্রায় ৩২শ হতদরিদ্র মানুষের ভিজিডির চাল উত্তোলন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান প্রশাসনিক সহযোগিতা করে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ করতে।
এদিকে এলাকার ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফের চাল না পেলে অনেকের ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা মারামারি বুঝি না। আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ঈদের আগেই আমাদের দেওয়া হোক।
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল পাবেন প্রকৃত উপকারভোগীরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত আলফাজ উদ্দীন কালুকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

