
অনিয়ম, দুর্নীতি আর ভোগান্তির অপর নাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিস বলে অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা নাগরিকরা।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও নতুন এনআইডি কার্ডের আবেদন করতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সেলিম রেজা।
অভিযোগ রয়েছে, সার্ভারের অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে ঘোরানো হলেও অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে অফিসের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা যোগদানের পর থেকেই সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক নিয়মে আবেদন করার পরও নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়ায় দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।
যাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোনো ঘুষ ছাড়াই ফাইল জমা দিচ্ছেন, তাঁদের দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। তবে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অফিসের আরও কয়েকজন কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অর্থের বিনিময়ে ফাইল প্রস্তুত করা, ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
মো. অন্তর আলী বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে এনআইডির জন্য আবেদন করেছি। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো সমাধান পাইনি। বারবার অফিসে এসেও চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। আসলে তারা বিভিন্ন অজুহাতে ফেরত দিচ্ছে। শুনছি, টাকা দিলে নাকি তাড়াতাড়ি কাজ হয়।
সেবা নিতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, এনআইডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। এটি পেতে যদি দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে মানুষের কষ্ট দূর হবে কবে? কেউ অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করিয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, মানুষ এখানে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসে, যাতে দ্রুত কাজ হয়। তবে এসে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা মুখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে কিছু মানুষের মুখে শুনতে পাই যে টাকা দিলে নাকি দ্রুত কাজ করা হয়। যদি এমনটাই হয়, তাহলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।
অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেলিম রেজা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সব মিথ্যা এবং বানোয়াট। তাঁরা সবাইকে সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মো. এনামুল হক বলেন, নির্বাচন অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া অফিসের কেউ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।