
জনবল ও অনার্স ভবন সংকটে ব্যাহত হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যায় ভুগছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট দ্রুত দূর করা গেলে সমস্যা কাটিয়ে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কলেজের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
সরকারি ডিগ্রি কলেজ অফিস সূত্র জানায়, কলেজে মোট শিক্ষক ও কর্মচারী থাকার কথা ৭০ জন। সেখানে শিক্ষক আছেন ৪৭ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন। কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এ কলেজে ইসলাম শিক্ষা, আরবি, ইংরেজি, রসায়ন, পরিসংখ্যান, মার্কেটিং ও ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পাঠদান নিশ্চিত করতে এসব পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য ইংরেজি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুনামের সঙ্গে শিক্ষার মান ধরে রেখেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ সংকটও রয়েছে। গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মেহেরপুর জেলা তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো গাংনী। আর গাংনীর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনবল ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পাঠদান অনেকটাই বিঘ্নিত হচ্ছে। তা ছাড়া, যতটুকু জেনেছি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষকপদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হলে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
শিক্ষার্থী আশিক আলী বলেন, গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে। তবে জনবল ও শ্রেণিকক্ষ সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। ক্লাসে গাদাগাদি করে বসতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। একটি প্রতিষ্ঠানকে মানসম্মত রাখতে হলে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা দরকার। তা ছাড়া, যেসব বিষয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান করবে।
গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। তাই এখানে কিছু শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া, অনার্সের ৮০০ থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি অনার্স ভবন দরকার। আরেকটি একাডেমিক ভবনও প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগসহ নতুন দুটি ভবনের ব্যবস্থা করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশা করছি।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজে পাঠদানের যে সমস্যা হচ্ছে, তা দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।