
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পরিত্যক্ত ভবনে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা। প্রায় ১৫ বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নামমাত্র সংস্কার করে পুনরায় রোগীদের সেখানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে মেঝে কর্দমাক্ত হয়ে যায়, যা একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আব্দুল গফুর বলেন, “আমরা এখানে সুস্থ হতে এসেছি। কিন্তু এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। যদি মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে, তাহলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। চিকিৎসা নিতে এসে এখন উল্টো মৃত্যুভয়ে আছি।”
আরেক রোগী সাদেক আলী বলেন, “ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কায় আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।”
ভবনটির করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে রোগী থামেনা খাতুন বলেন, “বিল্ডিংয়ের দেয়ালের ফাটল ও খসে পড়া পলেস্তারা দেখে আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে। এখানে সুস্থ হওয়ার চেয়ে বড় দুর্ঘটনার ভয়ই বেশি কাজ করছে।”
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। এটি প্রায় ১৫ বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খসে পড়া পলেস্তারাগুলো সাময়িকভাবে সংস্কারের চেষ্টা করেছি মাত্র।”
তিনি আরও বলেন, “সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। এর আগ পর্যন্ত রোগীদের অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
তিনিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছেও লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন রোগীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দায়সারা সংস্কারের পরিবর্তে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।