
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামি হাফিজুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. শিহাব রেজা (৩৮), মো. বাবলু হোসেনের ছেলে মো. বাদল রানা, (৩৪), মৃত সাজদার আলীর ছেলে মো. পিতলা হোসেন (৪৫), উজুর ছেলে সাইফুল, আজাদ মিয়ার ছেলে মোঃ জুয়েল রানা, মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ রাজু হোসেন, হাফিজুল ইসলাম, মোঃ কিবরিয়া, মোঃ মোস্তফা, মৃত রবকুল হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও মোঃ বাবলু হোসেন, মোঃ সাহেব আলীর ছেলে মোঃ সাব্বির হোসেন, মোঃ জালাল উদ্দিন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগী ভসিগাউর রহমানের (৪৭) গম ও লাউয়ের ক্ষেতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় আসামিরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, কাটারি দা, কাঠের বাটাম ও ট্রাক্টর নিয়ে ক্ষেতের মধ্যে ঢুকে ফসল নষ্ট করে চাষ দিতে শুরু করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জিয়াউর রহমান, চঞ্চল, মো. জামির হোসেন ও মো. মহিরুল ইসলাম। তখন আসামি মো. শিহাব সবাইকে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং নিজ হাতে থাকা কাটারি দা দিয়ে জিয়াউর রহমানের পেটে আঘাত করলে গুরুতর জখম হয় এবং ভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।
এছাড়াও চঞ্চল গুরুতরভাবে আহত হন, মো. জামির হোসেনের হাতের আঙুল কেটে যায়, মো. মহিরুল ইসলামের ডান হাতের কনুইয়ের ওপরে গুরুতর আঘাত লাগে, অন্যান্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়।
আসামিরা আনুমানিক ১০ কাঠা জমির গম ও ১ বিঘা জমির লাউ ক্ষেত ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের মধ্যে জিয়ারুল ও চঞ্চলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

