
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ত্রিশ বছর বয়সি কৃষক সেন্টু মিয়াকে গত ৯ মে বিকেলে ধান বাধায়ের কাজ করার সময় অচেনা এক বিষাক্ত সাপ তার ডান হাতে কামড় দেয়।
তাৎক্ষণিক মাঠে কর্মরত কৃষকরা সেন্টু মিয়া দেরি না করে দ্রুত নিজ বাড়িতে চলে আসেন এবং সাপে কামড়ের বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে বলে।
পরিবারের দুজনকে সাথে নিয়ে মটরসাইকেল যোগে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পরে আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দুদিন ধরে চিকিৎসা নিলেও শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ১৫ মে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
পুনরায় গতকাল শনিবার সকালে সেন্টু মিয়ার শ্বাস কষ্ট শুরু হলে স্থানীয় বামন্দী একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসলে চিকিৎসক রক্তের পরিক্ষা দেয়।
পরে রক্তের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান তার শরীরে থাকা রক্তে পয়জন আছে। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়ার পথে সেন্টু মিয়া মৃত্যু বরণ করে।
নিহত সেন্টু মিয়া কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরদিয়ার গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র। এবং গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের রিনা খাতুনের সাথে বিবাহের পর থেকে শশুর বাড়ি এলাকায় জমি কিনে বসবাস করছেন।
নিহতের শ্যালক আজগর আলী বলেন,সেন্টু অর্থনৈতিক ভাবে খুব দরিদ্র হলেও মানুষ হিসেবে খুব ভালো ছিলো। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। আর তার স্ত্রী রিনা খাতুনের এক সপ্তাহের মধ্যে আরেকটি বাচ্চা প্রসব করবে। অথচ সেন্টু সবাইকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে চলে গেলো।
জানি ডাক্তাররা রোগীকে বাচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তবে রোগীকে সম্পূর্ণ ভাবে বিষ মুক্ত হয়েছে কিনা? তা পরিক্ষা না করে রিলিজ দেয়া ঠিক হয়নি। এই একটি বাচ্চা পৃথিবীতে আসার আগেও বাবা হারা হলো। এই দায় ডাক্তার সাহেব কিভাবে এড়িয়ে যাবেন? আপনারাই বলেন।