
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিরাপদ মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে এগ্রোইকোলজি লার্নিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সেন্টারের (এএলটিসি) মিলনায়তনে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
পিকেএসএফের এগ্রো-মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের মৎস্য খাতের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফরহাদুর রেজা।
প্রশিক্ষণে লাভজনক ও টেকসই মাছ চাষের জন্য পুকুরের আকার ও গভীরতা, পানির উৎস, মাছের প্রজাতি ও পোনার মান নির্বাচন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ভোক্তার কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ পৌঁছে দিতে বিক্রির আগে-পরে মাছের সঠিক সংরক্ষণ ও পরিবহনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া মাছ উৎপাদনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাফল্য, চাষিদের জন্য সরকারি সেবা, পরামর্শ ও সহায়তা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পুকুরের পাড়ে মৌসুমি সবজি চাষের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত, বাড়তি আয় এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
মাছের খাদ্যের মান প্রাথমিকভাবে যাচাই, খাদ্য কেনা ও সংরক্ষণে সতর্কতা এবং নিম্নমানের খাদ্যের কারণে মাছের স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচে প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি মাছের সাধারণ রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে পুকুরের পরিবেশ ও পানির মান ঠিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণে সমন্বিত মাছ চাষের উপকারিতাও তুলে ধরা হয়। মাছের সঙ্গে সবজি বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, উৎপাদন খরচ কমানো এবং একই খামার থেকে একাধিক উৎসে আয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এগ্রোইকোলজি লার্নিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সেন্টারের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ, স্মার্ট প্রকল্পের সমন্বয়কারী সরোয়ার হোসেন শুভ, পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী শাখাওয়াত হোসেন এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদ-উর-রহমান।