
চুয়াডাঙ্গায় একটি ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় উদ্ধার হওয়া সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। উদ্ধারের ২৯ দিন পর শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদরের মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে বিকট শব্দ ও কম্পনের মধ্য দিয়ে ল্যান্ডমাইনগুলো ধ্বংস করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসব স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে একটি চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা (ক্যানাল) তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় তার কোদালের আঘাতে তিনটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি পুলিশ পাহারায় ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনীকেও অবহিত করা হয়। এরপর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট, যশোর ইউনিটের ১৫ সদস্যের একটি বোম্ব ডিসপোজাল দল ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একে একে মোট সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়।
দুপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলটি প্রথমে চারটি এবং পরে বাকি তিনটি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের ফলে ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলো বড় গর্তে পরিণত হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।