
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আরও নয়টি জেলা সদর হাসপাতালে নবস্থাপিত আইসিইউ ইউনিটেরও উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব আইসিইউ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একযোগে দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল বাকি নয়টি হাসপাতাল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালুর ফলে জেলা পর্যায়ে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীদের উন্নতমানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরের হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধার সম্প্রসারণ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ১০টি জেলা হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষ থেকে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন রাজনৈতিক নেতারাও। উদ্বোধনের পর অতিথিরা হাসপাতালের নতুন ভবনের সপ্তম তলায় স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট পরিদর্শন করেন।
এ সময় ফিতা কেটে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ কার্যক্রমের সূচনা করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর আইসিইউ চালু হওয়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই আইসিইউর কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ ইউনিট পরিচালনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময়, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, চিকিৎসক ও নার্সরা।