
জন্মগত প্রতিবন্ধী অসহায় মুসলিমা খাতুনের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ছাকারদ্দীন ও মৃত বিলকিস রাবেয়ার মেয়ে মুসলিমা খাতুন জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৩৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
জানা যায়, মুসলিমা খাতুন খুব ছোট বয়সেই মায়ের স্নেহ হারান। তার মা বিলকিস রাবেয়া দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার পর ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার স্নেহেই কোনোভাবে দিন কাটছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তার বাবা ছাকারদ্দীনও মারা যান। এরপর থেকে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন মুসলিমা।
মা-বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে তার নানাবাড়িতে বসবাস করছেন। সেখানে বৃদ্ধ নানির তত্ত্বাবধানে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে বয়সের ভারে নানি এখন আর আগের মতো দেখাশোনা করতে পারেন না। ফলে প্রতিবন্ধী মুসলিমার জীবনযাপন দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।
জন্মগত প্রতিবন্ধকতার কারণে মুসলিমা খাতুন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো ধরনের কাজ করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় অন্যের সহানুভূতি ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই তার দিন কাটছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করতেও তাকে চরম কষ্টে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সামান্য সহযোগিতা ও সমাজের মানবিক মানুষের সহায়তা পেলে মুসলিমা খাতুনের জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে।
মুসলিমার ভাই সেলিম বাবু সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে অসহায় জন্মগত প্রতিবন্ধী মুসলিমা খাতুনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আশা, মানবিক সহায়তা পেলে অসহায় মুসলিমা খাতুনের জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগবে।