
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ কাপড়ের হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখানে এসে কাপড় কেনাবেচা করছেন। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা এই হাটকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোড়াদহ কাপড়ের হাট বহু বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে এখানে কয়েকশ ব্যবসায়ী তাদের দোকান বা অস্থায়ী স্টল নিয়ে বসেন। হাটে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এই হাটে শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, গামছা, শার্ট-প্যান্টের কাপড়, বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরি ও আধা-তৈরি পোশাক পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দামে কাপড় কিনে নিজ নিজ এলাকায় বিক্রি করেন। ফলে পোড়াদহের এই হাট স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুষ্টিয়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এই হাটে আসেন। এতে করে হাটের বেচাকেনা আরও জমে ওঠে।
এদিকে হাটের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতান। দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটিতে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও পোশাকের কাপড় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কাপড় ও তুলনামূলক কম দামে বিক্রির কারণে দোকানটিতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ চোখে পড়ার মতো।
বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতান-এর মালিক আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, বর্তমানে দোকানে বেশ বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যে নিত্যনতুন পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে থ্রি-পিস, শাড়ি ও লুঙ্গির পাইকারি বিক্রি বেশি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে উৎসব মৌসুমকে ঘিরে পোড়াদহ কাপড়ের হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেচাকেনা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিও আরও সচল হবে।
এদিকে আশিকুল ইসলাম তার পরিবারকে নিয়ে এখানে কেনাকাটা করতে এসেছেন। তিনি জানান, এখানে পছন্দমতো মানানসই পোশাক পাওয়া যায়। দামেও বেশ সাশ্রয়ী। তাই তারা নিশ্চিন্তে এখান থেকে কেনাকাটা করেন।
মেহেদী হাসান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, পোড়াদহ কাপড়ের হাটে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তাই তারা নিয়মিত এই হাটে এসে প্রয়োজনীয় পোশাকের কাপড় কিনে থাকেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পোড়াদহ কাপড়ের হাটে বেচাকেনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, এ বছর হাটে কেনাবেচা আগের তুলনায় আরও বেশি হবে।