
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেছেন, জাতীয়তাবাদী ও সমমনা ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন নিষ্পেষিত হয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার দামাল সন্তান প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
তারপরও দেখা যাচ্ছে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসররা রাজনৈতিকভাবে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে হাসপাতাল বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড ঘুরে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তারেক রহমান যখন মালয়েশিয়ায় দেশের সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছেন, তখন একটি নিষিদ্ধ দল ও কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।”
মেহেরপুর জেলা বিএনপির কিছু নেতাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আজ তারা কোথায়, যারা জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘর করে রাজনীতি করে? তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আবার বিএনপি সাজার চেষ্টা করে। ওইসব ভণ্ড বিএনপিকে আমি ধিক্কার জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ধর্মভিত্তিক দল বলেছিল, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে। সেই দলের নেতাকর্মীরাও কম নির্যাতনের শিকার হয়নি।
কিন্তু তারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বাংলাদেশ সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট থেকে যে দল বিচ্যুত হবে এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসর হবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “ভারতে মুসলমানদের ওপর যে ন্যক্কারজনক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। দলমত নির্বিশেষে আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
বিএসএফের পুশইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত থেকে পুশইনের যে চেষ্টা চলছে, তা দেশপ্রেমিক বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার জনগণ প্রতিরোধ করে চলেছে। এ জন্য বিজিবি এবং সীমান্তবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান যে পরিকল্পনা ও রূপরেখা দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্লাহিল মারুফ পলাশ, বিএনপি নেতা শাহজাহান সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন, বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ডাকু, জিহাদ আলী, এনামুল হক, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল গনি, নুর ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল কালাম, ফজলুল হক, আবু বক্কর, জাসাস নেতা আমিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সংক্ষিপ্ত সভা পরিচালনা করেন জাসাস নেতা সুলেরি আলভী।