
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেছেন, “আপনারা জানেন, আজ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে জিয়া পরিবারের ওপর। এই জিয়া পরিবারকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ জন্য আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জাদুখালী মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কামরুল হাসান বলেন, “আমরা মনে করি, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ একই সূত্রে গাঁথা। তবে ২০২৪ সালকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে একাত্তরকে ম্লান করা যাবে না। কারণ, আপনারা জানেন, যারা একাত্তর চায়নি, তারাই এখন বাংলাদেশে বেশি বেশি কথা বলছে। আমাদের বড় ভাই মাসুদ অরুণ একটি কথা বলেছেন, তাঁকে নাকি হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা এটিকে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতৃত্বকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চলছে।”
বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি হিমালয়ের মতো পর্বত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় দল বিএনপি। হিমালয়ের একটু বরফ খসে গেলে যেমন হিমালয়ের কিছু যায় আসে না, তেমনি বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করেও দলটির কোনো ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু হিমালয়ের মতো এই দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং দলটি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমরা এখনো হিমালয়ের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। হিমালয় থেকে কেউ একটি ঢিল মারলে কিংবা একটু বরফ খসে পড়লে তাতে বিএনপির কিছু যায় আসে না। কারণ, বিএনপি হিমালয়ের মতো শক্তিশালী দল।”
দলের কমিটি নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে কামরুল হাসান বলেন, “আমরা এই সমাবেশ থেকে একটি কথা বলতে চাই, বিএনপি যে কমিটি দিয়েছে, কেউ যদি বলে কালকে ভাঙবে, পরশুদিন ভাঙবে, তাহলে আপনাদের তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এক হাজার বছর পার্টি অফিসে বসে চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খেলেও যদি বলা হয় কমিটি ভাঙবে, তাতে বিশ্বাস করবেন না। কোনোভাবেই এই কমিটি ভাঙা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা সবাই ফেসবুক দেখেন। আমাদের এক নেতা মাসুদ অরুণ খালেদা জিয়ার কোলে মাথা রেখেছেন—এমন একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। এটি কি বিশ্বাসযোগ্য? এটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই এআইয়ের মাধ্যমেই তারা কমিটি ভাঙতে চায়। যেটি বিশ্বাসযোগ্য নয়, সেটিকেই তারা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরতে চায়।”
মেহেরপুরের হাসপাতালের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। যে গলা বা খাবার আপনার বাড়িতে ছাগল-গরুও খায় না, আপনারা নিজেরাও যে ডিম বা পাউরুটি ব্যবহার করেন না, সেই ডিম, পাউরুটি ও কলা রোগীদের খাওয়ানো হচ্ছে। আপনার মাকে খাওয়ানো হচ্ছে, আমার মাকে খাওয়ানো হচ্ছে, আপনার বাবাকে খাওয়ানো হচ্ছে, আমার বাবাকে খাওয়ানো হচ্ছে। কারা এসব সরবরাহ করছে, কারা ঠিকাদারি করছে, কারা ওষুধের ঠিকাদারি করছে, আপনারা সবই জেনেছেন।”
সারের ডিলার নিয়োগ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ ফেসবুকে দেখলাম, মুজিবনগরে একটি গাড়ি সারসহ আটক করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, কলিম উদ্দিনের গোডাউন থেকে এসব সার উদ্ধার করা হয়েছে। সেই কলিম উদ্দিনের গোডাউনের লাইসেন্সও নাকি বিএনপির এক বড় নেতার। তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে এসব লাইসেন্স করিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যতগুলো লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিয়ে আওয়ামী লীগের সার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন। অথচ তাঁরা বলছেন, আমরা নাকি সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা জানেন, সারের ডিলার নিয়োগের জন্য দুটি কমিটি রয়েছে। একটি ১১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিটি এবং অন্যটি ১১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি। এই কমিটিগুলোই নির্ধারণ করেছে কারা সারের ডিলার হবেন এবং কারা হবেন না। এখানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো বিষয় ছিল না। তাই আপনাদের কাছে আমার উদাত্ত আহ্বান, আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আলমগীর খান ছাতু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমান আহমেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ।
এ সময় বক্তব্য দেন পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আজমল হোসেন মিন্টু, জাসাসের সদস্যসচিব বাকা বিল্লাহ, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, রশিদুল ইসলাম, মহিবুল ইসলাম রকেট, রাজু আহমেদ রাজু, পলাশ ফরাজী, মিয়ারুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বিপ্লব ও যুবদল নেতা লিয়াকত আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।