
দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবস্থিত দৌলতগঞ্জ নীলফামারীর চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ, রাঙামাটির তেগামুখ ও হবিগঞ্জের বাল্লা। তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বতী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।
এমন খবরে দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দরকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ দেখা দিয়েছিলো, তা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। তবে এই শুল্ক স্টেশন নিয়ে আশাবাদী ছিল জীবননগরবাসী।
জানা যায়, ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দরটি শুল্ক স্টেশন হিসেবে চালু ছিল। তবে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৭২ সালে এর কার্যক্রম পুনরায় চালু হলেও অজ্ঞাত কারণে এই শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই ও ২০০৯ সালের ১১ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবি) আর) প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে সকল প্রকার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। একইসাথে ১৯টি পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়।
এরপর ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই দৌলতগঞ্জ শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল সরকার। একই বছরের ২৪ আগস্ট তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থলবন্দরের উদ্বোধন করলেও আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জীবননগরবাসী আশায় বুক বেধেছিলো এই স্থলবন্দর চালু হবে। স্থানীয় অর্থনীতির সাথে সাথে দেশের উন্নয়ন হবে। আজকে বন্দর বন্ধের সংবাদ শুনে আশাহত হলাম।
আবাসিক হোটেলের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ খান জুয়েল বলেন, দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর চালু হবে, এই আশায় আমার বাবা একটি আবািসক হোটেল চালু করেছিল ২০০০ সালে। তবে বারবার আশা দেওয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়িন। এই সংবাদ জীবননগরবাসীর জন্য দু:সংবাদ। জাসিন মারুফ বলেন, জীবননগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো এ স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে। কিন্তু আজকের সংবাদে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। এই স্থলবন্দর চালিলু হলে বেকারত্ব দূর হতো। একইসাত্থে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নতি হতো।
জানতে চাইলে সিঅ্যান্ডএফ এসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান লিটন বলেন, আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেখেছি। তাতে তারা জানিয়েছে অবকাঠামো কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। মূলত এটা তো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে। এনবিআর কিন্তু বন্ধের কোনো ষোঘণা দেয়নি।
তিনি বলেন, একদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যেমন তাদের কার্যক্রম সীমিত করেছে, অপরদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অবকাঠনোর একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছে। মাজেদুর রহমান লিটন আরও বলেন, যেহেতু দেশে এখনও কোনো রাজিনৈতিক সরকার নেই। ভোটের মাধ্যমে পট পরিবর্তন হবে। সুতরাং আমরা দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর নিয়ে আশাবাদী এখনও।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ মার্চ দেশের চারটি স্থলবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রাখার সুপারিশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এই স্থলবন্দরগুলো হলো নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ, রাঙামাটির তেগামুখ ও হবিগঞ্জের বাল্লা।