
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা মাঠে থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
যুবসমাজের সাহস, ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তি যেকোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুবদলকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। দলের ঐক্য বজায় রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে যুবদলকে আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা যুবদলের উদ্যোগে জেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য এসকল কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করা এবং দলের পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে ৪৮ বছর আগে যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুবদল বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করে আসছে। দলের সংকটময় সময়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। এসব আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীদের সাহসী ভূমিকা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করেছে।এছাড়াও, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মেহেরপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, এটি গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে দেশ গঠন ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার আদায় এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে আসছেন।
তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি ও স্বৈরাচারের দোসররা তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দুর্বল ও ধ্বংস করার জন্য তারা নানা ধরনের পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ, সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে। গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং তাঁর ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আহমেদ ইমরান।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলীসহ বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের পরে শহরের কোর্টমোড় থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাথুলী সড়কে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের যুবদলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।