
মানবাধিকারের আড়ালে ভয়াল প্রতারণার জাল বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা গ্রামে তাসলিমা নামের এক নারীর কাছ থেকে মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে দুই দিন আটকিয়ে রেখে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিরিন নামের এক কথিত মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারকুলা গ্রামের তাসলিমা নামের এক নারীকে দুই দিন একটি কক্ষে আটকে রেখে সালিশের নামে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ সময় এক ব্যক্তিকে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের দাবি, শিরিন দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা থানা পাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে একটি কক্ষকে কথিত মানবাধিকার অফিস হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধে সালিশ করে আসছেন। বিশেষ করে পরকীয়ার অভিযোগ, পালিয়ে বিয়ে এবং পারিবারিক বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক ব্যক্তি। এমনকি থানার চেয়ে বেশি অভিযোগ তিনি মীমাংসা করেন বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান।
বাসিন্দারা আরও জানান, তার স্বামী মিলন মারা যাওয়ার পর সালিশের টাকা দিয়েই তার সংসার চলে। আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে তার বাড়ি ছিল। বর্তমানে আলমডাঙ্গা থানা পাড়ায় তার নির্দেশে একাধিক গ্যাং চলে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীকে ব্যবহার করে কখনো পুলিশ, কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়। এর মাধ্যমে সালিশের নামে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় ও প্রভাব বিস্তারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংগঠনকে জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা কিংবা বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষমতা আইন দেয় না। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত নারী বিভিন্ন সময় লিগ্যাল এইডের নাম ব্যবহার করে নিজেকে আইনজীবী বা আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করলেও তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পারকুলা গ্রামের তাসলিমার অভিযোগ, মীমাংসার নামে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এরপর তাসলিমা গত ২০/০৬/২০২৬ তারিখে আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পাল্টা অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ। এমতাবস্থায় ২৭/০৬/২০২৬ তারিখ শনিবার বেলা ১২টার সময় আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হওয়ার পর সালিশে উপস্থিত হন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দেওয়া শিরিন। এ সময় সাংবাদিকরা মানবাধিকার সংস্থার নাম জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে ভুয়া মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তিন বছর পূর্বে আমি মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই।” পরে কিভাবে বিচার-সালিশ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকল মহলকে ম্যানেজ করে সালিশ করি।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানবাধিকার একটি মর্যাদাপূর্ণ ও মানবকল্যাণমূলক ধারণা। সেই পরিচয়ের আড়ালে যদি কেউ সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা শুধু আইনবিরোধী নয়, মানবাধিকারের মূল চেতনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।