
ঈদু মৌসুমে প্রতি বছর মোটরসাইকেল বিক্রির সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বিক্রেতারা। তবে এবার জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদের পর মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে অস্বাভাবিক মন্দা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো ঈদের আগে বিশেষ ছাড় ও অফার থাকলেও এবার তেল সংকটের কারণে অনেক ক্রেতাই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
তবে মেহেরপুরে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি বেড়েছে। আগে যেখানে একটি শোরুমে মাসে তিন থেকে চারটি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি হতো, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫টি।
বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে। অনেক ক্রেতাই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া বাইক সার্ভিসিং এর সংখ্যাও কমে গেছে।
মেহেরপুর শহরের মেসার্স হোসেন মোটরসাইকেল গ্যালারির ম্যানেজার নাইহান নাহিদ বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি ভালই ছিল, কিন্তু এই মাসে তেল সংকটের কারণে বেচাকেনা প্রায় শূন্য। আমাদের বিক্রি ৯০% কমেছে।
বাজাজ শোরুমের মোঃ হাসিদুর রহমান বিপ্লব জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই মাসে বিক্রি অনেক কম। তেল সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল চালাচ্ছে না, কিনছে ও না।
হিরো শোরুমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কবিরুজ্জামান সেন্টু বলেন, তেলের সংকটের পর বিক্রি আগের তুলনায় প্রায় ৯০% কমে গেছে।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল শোরুমের মোঃ রোহিত ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আগের তুলনায় আমাদের ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি দ্বিগুণ। যেখানে মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি বিক্রি হতো, এখন আমরা মাসে ১৫ থেকে ২০টি বিক্রি করতে পারছি।
জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
রাইডার ও সাধারণ চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তারা আগের মতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।
গাংনী থেকে এক রাইডার বলেন, তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এজন্য এখন ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছি।
বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে বিক্রি আরও কমে যাবে।