
ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া (৪৮) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল পণ্ড করতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তরু মিয়ার অবস্থা শঙ্কাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তরু মিয়া মারা যান।
নিহত তরু মিয়া মাধবপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। প্রায় দুই দশক তিনি প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে এসে তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা হওয়ায় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবু কালাম বলেন, “জামায়াতের হামলায় আমিসহ বিএনপির ৭ নেতা-কর্মী আহত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। তরু মিয়া মারাত্মক আহত ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে আনা হচ্ছে।”
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, “আহত তরু মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুনরায় কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই কারণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

