
ঝিনাইদহে চিকিৎসকের অবহেলায় আসমা হক নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত নজরদারি পেলে ওই প্রসূতির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের শামীমা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল প্রসবব্যথা নিয়ে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি হন আসমা। পরে সেখানে তার সিজার করা হয়। সিজারের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও আসমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এর মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।
স্বজনরা বুধবার দুপুরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আবারও রাতে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আসমার চাচা আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। যে ডাক্তারের সিজার করার কথা ছিল, তিনি সিজার করেননি। আমার ভাতিজিকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এরপর সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসি। সে সময় দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক ডা. শামীমা বলেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায় নেই।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারবো।”
অভিযোগ উঠেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় একের পর এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক-হাসপাতালের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

