
দাফনের সাড়ে ৪ মাস পর ঝিনাইদহের একটি গোরস্থান থেকে আফগানিস্তান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের পৌর কবরস্থান থেকে জেলা ও পুলশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ দাফন করতে হস্তান্তর করা হয়েছে আফগানিস্তান থেকে আসা তাঁর ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে।
মরদেহ উত্তোলনের সময় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিম, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, নিহত হাসমত মোহাম্মদীর ভাই ইমাল মোহাম্মদী, আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের দুলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের বাংলাদেশী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও আইনি সকল প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। এ কাজে যাঁরা সহযোগীতা করেছে তাদের প্রতি আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর পরিবার কৃতজ্ঞ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, “আইনি সকল নিয়ম-কানুন মেনে এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম পলিয়ানপুরের ইছামতী নদী থেকে হাসমত মোহাম্মদীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ মরদেহ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌর ববরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে।
মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে তাঁর ভাই ইমাল মোহাম্মদী প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ দীর্ঘ ৫৮ দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।