
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গাগান্না গ্রামে ধান উড়ানোর ফ্যানে বিদ্যুতায়িত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার গাগান্না গ্রামের মজিবর খা (৫৫) ও তার স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৪০) ধান উড়ানোর জন্য স্ট্যান্ড ফ্যানে সংযোগ দিতে যাচ্ছিল এসময় ফ্যানের পুরা বডিতে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যায় এসময় তার স্বামী ফ্যানের আঘাতে ছিটকে পড়লে স্ত্রী উদ্ধার করতে যায় এবস্থায় দুজনেই বিদ্যুতায়িত হয়ে এক সাথে মৃত্যু বরণ করেণ।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার ভোরের কুয়াশা কাটার আগেই মাঠের সোনালী ধান পরিষ্কার করার জন্য মজিবর খান ঘরের বৈদ্যুতিক ফ্যানটি ঠিক করতে যান। কিন্তু তিনি জানতেন না, ওই ফ্যানে সমস্যা আছে। ফ্যানে হাত দেওয়া মাত্রই বিদ্যুতের তীব্র আঘাতে ছটফট করে ওঠেন মজিবর।
ঠিক সেই মুহূর্তে, ঘরের ভেতর থেকে স্বামীর এই মরণ-চিৎকার শুনতে পান স্ত্রী মোমেনা খাতুন। চোখের সামনে নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় মানুষকে মৃত্যুর মুখে ছটফট করতে দেখে মোমেনা আর নিজের অস্তিত্বের কথা ভাবেননি। কোনোরকম আত্মরক্ষার চিন্তা না করে, স্বামীকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীকে টেনে তুলতে চেয়েছিলেন।
কিন্তুস্বামীকে তো ফেরানো গেলই না, উল্টো সেই মরণ-ফাঁদ কেড়ে নিল মোমেনার প্রাণও। আর সেই শেষ আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থাতেই চিরতরে নিথর হয়ে গেল দুটি হৃদয়।
মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা। বাবা-মায়ের এমন আকস্মিক ও বীভৎস মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসে সন্তানরা। উঠোনে ছড়িয়ে থাকা ধান আর তার মাঝে শুইয়ে রাখা বাবা-মায়ের নিথর দেহের ওপর আছড়ে পড়ে তাদের বুক ফাটানো আর্তনাদ"ও আব্বা, ও আম্মা, তোমরা কথা কও না কেন? আমাদের একা থুয়ে তোমরা একসাথে কই চলে গেলা!" সন্তানদের এই গগনবিদারী আহাজারিতে সেখানে উপস্থিত শত শত প্রতিবেশীর চোখ ফেটে জল নেমে আসে ।
সোনার ফসল ঘরে তোলার আনন্দকে এক নিমেষে এক বুক বিষাদে পরিণত করে, সন্তানদের বুকে এক জনমের শূন্যতা এঁকে দিয়ে মজিবর ও মোমেনা চলে গেলেন এক অন্তহীন না ফেরার দেশে। গাগান্না গ্রামের প্রতিটি ঘরে আজ উনুন জ্বলেনি, বিষাদের এক কাল মেঘ যেন থমকে আছে পুরো জনপদ।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বিদ্যুস্পষ্টে আজ সকালে গাগান্না গ্রামের মজিবর খা ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেন জেনেছি।