
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর মধ্যে ঝিনাইদহ থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার লিজি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথে সক্রিয়, শিক্ষিত ও অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মানদণ্ডে ঝিনাইদহে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কামরুন নাহার লিজি।
জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরতলীর মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার আওয়ামী শাসনামলে রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তবুও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ২০০৮ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের সময় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জড়ানো হয় তাকে। ২০১৩ সালে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। একই বছরে তাকে অবৈধভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর চাকরিচ্যুত থাকাকালীন সময়েও বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নারী নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলা করা হয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষিত ও ত্যাগী নারী নেত্রী হিসেবে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার লিজির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কামরুন নাহার লিজি বলেন, “ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের অনুসারী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ঝিনাইদহের মানুষের সেবা করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায় এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”
ঝিনাইদহে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও কামরুন নাহার লিজিকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।

